আল্লাহর সাথে সম্পর্ক

 আল্লাহ্ পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছন তার প্রতিনিধি হিসাবে। আল্লাহ্ বলেন নিশ্চই পৃথিবীতে আমি প্রতিনিধি সৃষ্টি করব। (সুরা বাকারা আয়াত ৩০)

আমাদের কে এখানে কিছু নিদৃষ্ট কাজ ও নির্ধারিত সময় দিয়ে পাঠানো হয়েছে। সময় শেষে আমরা সঠিকভাবে কাজ করতে পারি আর না পারি আবার ও  তার নিকট ফিরে যেতে হবে। অতঃপর শুরু হবে অনন্তকাল। আমাদরে কৃতকর্ম অনুযায়ী শুরু হবে নতুন আর এক জীবন যার শুরু আছে কিন্তুু শেষ নেই। যেখানে আমাদের আপনজন বা আত্মীয় স্বজন কেউ থাকবে না বা থাকার সুযোগ ও নেই। আমাদের কে থাকতে হবে তারই অধীনে যিনি আমাদের কে সৃষ্টি করেছেন, আর তিনি হলেন সমগ্র বিশ্বের মালিক আল্লাহ্। সুতরাং অনন্তকাল যার অধীনে থাকতে হবে তার সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করাই হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ। আসুন আমরা জেনে নেই  কিভাবে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হয়।

আল্লাহর সাথে সম্পর্ক।
নিন্মোক্ত পদ্ধতি গুলো অনুসরণের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ক দৃঢ় ও মজবুত করতে পারি। তা হলোঃ
১। মৌলিক বা ফরজ ইবাদত যথাযথ ভাবে পালনঃ
              আমাদের  উপর যে সকল ইবাদত গুলো ফরজ করা হয়েছে যেমন নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত। এগুলোর ব‍্যাপারে কুরআন ও হাদীসে যে ভাবে আদায় করার কথা বলা হয়েছে ঠিক সেভাবেই আমাদের কে তা আদায় করতে হবে।
২। সরাসরি কুরআন হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য অধ‍্যায়নঃ
                 কুরআন আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের পথ প্রদর্শনের জন্য দিয়েছেন। এটা আমাদের ভালভাবে বুঝতে হবে এবং  এ অনুযায়ী আমাদের জীবন ব‍্যবস্থা পরিচালনা করতে হবে। হাদীস হল আল কুরআনের ব‍্যাখ‍্যা। রসুল (সঃ)  এর সমস্ত জীবন ই হল আল কুরআনের প্রতিচ্ছবি। এ ছাড়াও বিভিন্ন ইসলামি সাহিত্য নিয়মিত পড়তে হবে।
৩। বেশি বেশি নফল ইবাদত ও আল্লাহর পথে ব‍্যয় ঃ
              আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার জন‍্য ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি অধিক নফল ইবাদত করা যেতে পারে। নফল নামাজ, নফল রোজা। প্রতি চন্দ্র মাসের১৩,১৪ ও ১৫ তারিখ। সোমও বৃহস্পতিবার  রোজা রাখা যেতে পারে। এ ছাড়াও ইসলামের বিশেষ বিশেষ দিন রোজা রাখা যেতে পারে।
    নফল নামাজের ভিতর সর্বোত্তম হল তাহাজ্জুতের নামাজ। এ ব‍্যতিত আল্লাহ্ যে সম্পদ আমাদের কে দান করেছেন তা হতে আল্লাহর রাস্তায় দান করা।
৪। সার্বক্ষণিক দুআ ও জিকির ঃ
            নিজেদের মনকে সবসময় বিভিন্ন দুআ ও জিকিরের মাধ্যমে ব‍্যস্ত রাখা। সর্বাবস্থায় আল্লাহর বিধী নিষেন মেনে চলা ও আল্লাহর জিকির। সুবহানাল্লাহী অবিহামদি সুবহানাল্লাহী আজিম সর্বোত্তম জিকির। দুরুদ পড়া, এস্তেগফার পড়া, আল্লাহ হু আকবর ইত্যাদি সহ আরও যেসব শব্দাবলী জিকিরের জন‍্য আছে সগুলা পড়া।
আল্লাহ্ আমাদের কে সেই সকল বিষয়ে বেশি বেশি আমল করার তৌফিক দিন যেগুলো তার পছন্দনীয় এবং যার মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি অর্জন করে ইহকালে শান্তি এবং পরকালে মুক্তি পেতে পারি।

Comments